নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হলেও তা উত্তম

সর্বাবস্থায় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হলেও তা উত্তম। সুতরাং হয় ভালো কথা বলো নতুবা চুপ থাকো। তবুও রাগ করো না। রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে, যা গর্হিত কাজ। মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, লাভ-ক্ষতি, সম্মান-অপমান, রাগ-অনুরাগ ও বিপদ-আপদ—বিভিন্ন পরিস্থিতি আসতেই থাকে। এসব পরিস্থিতিতে নিজের আবেগ, রাগ, প্রবৃত্তি, কথা ও আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়। বিশেষ করে রাগের মুহূর্তে মানুষ অনেক সময় এমন কথা বলে বা এমন কাজ করে বসে, যার জন্য পরবর্তীতে তাকে অনুতপ্ত হতে হয়।

ইসলাম মানুষকে আবেগহীন হতে বলেনি; বরং আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করতে শিক্ষা দিয়েছে। তাই সর্বাবস্থায় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হলেও একজন মুমিনের জন্য তা অত্যন্ত উত্তম গুণ। কুরআন ও হাদীসে আত্মসংযম, ধৈর্য, রাগ দমন, ক্ষমা এবং প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

(ক) আত্মসংযম কী?

আত্মসংযম হলো—নিজের রাগ, ক্রোধ, আবেগ, প্রবৃত্তি ও ইচ্ছাকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে তা আল্লাহর অবাধ্যতা বা মানুষের ক্ষতির কারণ না হয়।

কেউ আমাকে অপমান করল—আমি প্রতিশোধ নিতে পারি, কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করলাম।

কেউ আমার প্রতি অন্যায় করল—আমি রাগান্বিত হলাম, কিন্তু সীমালঙ্ঘন করলাম না।

কোনো হারাম কাজের সুযোগ পেলাম—প্রবৃত্তি আমাকে আকর্ষণ করল, কিন্তু আল্লাহর ভয় আমাকে বিরত রাখল।

এগুলোই আত্মসংযমের বাস্তব উদাহরণ।

(খ) কুরআনের আলোকে আত্মসংযম :
 ১. ক্রোধ সংবরণ ও ক্ষমা করা মুমিনের গুণ :

আল্লাহ তাআলা বলেন— الَّذِينَ يُنفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ  “যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে, ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করেআর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন”  (আলে ইমরান: ১৩৪)।

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুত্তাকিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে ক্রোধ সংবরণ ও মানুষকে ক্ষমা করার কথা বলেছেন। অর্থাৎ রাগ হওয়া মানুষের স্বাভাবিক বিষয় হলেও রাগের বশবর্তী হয়ে অন্যায় করা মুমিনের কাজ নয়। আল্লাহ শুধু রাগ দমন করাকেই প্রশংসা করেননি; বরং এরপর ক্ষমা এবং সর্বশেষে ইহসান বা উত্তম আচরণের কথা বলেছেন।

২. প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার পুরস্কার জান্নাত :

আল্লাহ তাআলা বলেন— وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَىٰ ۝ فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَىٰ  “আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়ানোর ভয় করেছে এবং নিজেকে প্রবৃত্তির কামনা থেকে বিরত রেখেছে, নিশ্চয়ই জান্নাতই হবে তার আবাস” (আন-নাযিআত: ৪০–৪১)।

মানুষের নফস তাকে অনেক সময় অন্যায়, অহংকার, প্রতিশোধ, লোভ ও কামনার দিকে নিয়ে যায়। কিন্তু যে ব্যক্তি আল্লাহর সামনে জবাবদিহির কথা স্মরণ করে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সুতরাং আত্মসংযম কেবল সামাজিকভাবে সুন্দর চরিত্র নয়; এটি জান্নাত লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

৩. মন্দকে উত্তম পদ্ধতিতে প্রতিহত করা :

আল্লাহ তাআলা বলেন— وَلَا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلَا السَّيِّئَةُ ۚ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ  “ভালো ও মন্দ সমান নয়তুমি মন্দকে এমন পন্থায় প্রতিহত করো যা উত্তমতাহলে দেখবে, যার সঙ্গে তোমার শত্রুতা ছিল, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো হয়ে গেছে” (ফুসসিলাত: ৩৪)।

মানুষ আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে একইভাবে খারাপ আচরণ করা সহজ। কিন্তু মন্দ আচরণের জবাবে উত্তম আচরণ করা আত্মসংযমের বড় নিদর্শন। এটি মানুষের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং শত্রুতাকে বন্ধুত্বে পরিণত করার সুযোগ সৃষ্টি করে।

(গ) হাদীসের আলোকে আত্মসংযম :
 ৪. প্রকৃত শক্তিশালী ব্যক্তি কে?

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ، إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ  “শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করতে পারে; বরং শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে” (বুখারী হা/৬১১৪; মুসলিম হা/২৬০৯)

এই হাদীস আত্মসংযমের গুরুত্বকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। শারীরিক শক্তি দিয়ে অন্যকে পরাজিত করা তুলনামূলক সহজ; কিন্তু নিজের রাগকে পরাজিত করা অনেক কঠিন। তাই প্রকৃত শক্তি হলো নিজের নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।

৫. রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর উপদেশ :

এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে বলল, يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَوْصِنِي  “হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে উপদেশ দিন।” তিনি বললেন, لَا تَغْضَبْ রাগ করো নালোকটি বারবার উপদেশ চাইলে রাসুলুল্লাহ ﷺ প্রতিবারই বললেন, لَا تَغْضَبْ রাগ করো না” (ববুখারী হা/৬১১৬)

এর অর্থ এই নয় যে মানুষের কখনো রাগের অনুভূতি সৃষ্টি হবে না। বরং এর অর্থ হলো, রাগের বশবর্তী হয়ে যেন মানুষ অন্যায় কথা ও কাজ না করে। রাগকে নিয়ন্ত্রণ করা, নিজেকে সামলে নেওয়া এবং শরিয়তের সীমা অতিক্রম না করাই এই হাদীসের অন্যতম শিক্ষা।

৬. ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও রাগ দমন করার পুরস্কার :

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, مَنْ كَظَمَ غَيْظًا وَهُوَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يُنْفِذَهُ دَعَاهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ مَا شَاءَ  “যে ব্যক্তি প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নিজের ক্রোধ সংবরণ করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সমগ্র সৃষ্টির সামনে ডাকবেন এবং তাকে হুরদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেবেন” (আবু দাউদ হা/৪৭৭৭; জামে তিরমিজি হা/২০২১)

এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, ব্যক্তির প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। অর্থাৎ দুর্বলতার কারণে প্রতিশোধ না নেওয়া আর ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর জন্য রাগ দমন করা এক বিষয় নয়। দ্বিতীয়টি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আত্মসংযম।

৭. কথা বলার ক্ষেত্রেও আত্মনিয়ন্ত্রণ জরুরী :

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,   مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে” (বুখারী হা/৬০১৮; মুসলিম হা/৪৭)

মানুষের অনেক সমস্যা তার হাতের কারণে নয়, বরং তার জিহ্বার কারণে সৃষ্টি হয়। রাগের সময় একটি কথা সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে, একটি অপমানজনক বাক্য হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করতে পারে এবং একটি মিথ্যা কথা বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই কখন কথা বলতে হবে এবং কখন নীরব থাকতে হবে এটি আত্মসংযমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৮. মুমিনের জন্য ধৈর্য একটি বড় গুণ :

আল্লাহ তাআলা বলেন, إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ  “নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের তাদের পুরস্কার অগণিতভাবে প্রদান করা হবে” (আয-যুমার: ১০)।

জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতি মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। কখনো এমন ঘটনা ঘটে, যা মানুষ পরিবর্তন করতে পারে না। তখন হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। আত্মসংযম শুধু রাগ নিয়ন্ত্রণের নাম নয়; দুঃখ, বিপদ, হতাশা ও কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজেকে আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যে রাখাই আত্মসংযমের অংশ।

৯. ক্ষমা করা উত্তম :

আল্লাহ তাআলা বলেন— وَجَزَاءُ سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِثْلُهَا ۖ فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ “মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ; কিন্তু যে ক্ষমা করে এবং সংশোধন করে, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে” (আশ-শূরা: ৪০)।

ইসলাম ন্যায়সঙ্গত প্রতিকারের অধিকার স্বীকার করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে ক্ষমা ও সংশোধনের পথকে মহৎ হিসেবে তুলে ধরেছে। তাই প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষমা করে দেওয়া আত্মসংযমের উচ্চতর পর্যায়।

১০. আত্মসংযমের সঙ্গে আল্লাহর সাহায্য :

আত্মসংযম অর্জন করা কঠিন। মানুষ নিজের শক্তিতে সবসময় নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাই আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا ۚ وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ  “আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক চেষ্টা করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহ দেখাব। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সঙ্গে আছেন” (আল-আনকাবূত: ৬৯)।

নিজের নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রামও একজন মুমিনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সাধনা। যে ব্যক্তি নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা করে, আল্লাহ তার জন্য হেদায়াতের পথ সহজ করে দেন।

(ঘ) আত্মসংযম অর্জনের কয়েকটি বাস্তব উপায় :
১. আল্লাহর জবাবদিহির কথা স্মরণ করা : কোনো কথা বা কাজের আগে মনে রাখতে হবে, একদিন আমাকে আল্লাহর কাছে এর হিসাব দিতে হবে।
২. রাগের সময় নীরব থাকা : রাগের মুহূর্তে তর্কে না জড়িয়ে কিছু সময় চুপ থাকা অনেক বড় ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারে।
৩. ক্ষমা করার অভ্যাস করা : প্রতিটি ভুলের প্রতিশোধ নেওয়া প্রয়োজন নেই। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
৪. নিজের নফসের হিসাব নেওয়া : প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত।আজ কোথায় আমি রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি? কোথায় অহংকার করেছি? কোথায় অপ্রয়োজনীয় কথা বলেছি?
৫. কুরআন ও যিকিরের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা : আল্লাহর স্মরণ অন্তরকে প্রশান্ত করে। আল্লাহ বলেন,  أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ  “জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়” (আর-রাদ: ২৮)।
৬. আবেগের পরিবর্তে শরিয়তের নির্দেশ অনুসরণ করা : আমি কী করতে চাই? তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আল্লাহ কী করতে বলেছেন? একজন মুমিনের সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত কুরআন ও সুন্নাহ।
(ঙ) আত্মসংযম কি দুর্বলতার লক্ষণ? না। বরং ইসলামি দৃষ্টিতে আত্মসংযম শক্তির পরিচয়। কেউ আমাকে অপমান করল, আমি চাইলে তাকে অপমান করতে পারি, কিন্তু আল্লাহর ভয়ে নিজেকে থামালাম। আমার সঙ্গে অন্যায় করল, আমি প্রতিশোধ নিতে পারি, কিন্তু ক্ষমা করলাম। আমি রাগান্বিত, তবুও সীমালঙ্ঘন করলাম না। আমি হারাম কাজের সুযোগ পেলাম, কিন্তু আল্লাহর ভয়ে তা থেকে ফিরে এলাম। এসব দুর্বলতা নয়; বরং এগুলো তাকওয়া, ঈমান, ধৈর্য ও আত্মশক্তির নিদর্শন।

পরিশেষে, সর্বাবস্থায় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা নিঃসন্দেহে কঠিন। মানুষের নফস, রাগ, আবেগ ও প্রবৃত্তি তাকে বারবার সীমালঙ্ঘনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। কিন্তু কুরআন ও সুন্নাহ আমাদের শিক্ষা দেয়—নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করাই প্রকৃত শক্তি, রাগ দমন করা মুমিনের গুণ, ক্ষমা করা উত্তম চরিত্র এবং প্রবৃত্তিকে আল্লাহর আনুগত্যের অধীন করা জান্নাত লাভের অন্যতম পথ। তাই জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে আমাদের মনে রাখা উচিত, “আমি যা করতে সক্ষম, তা-ই করব না; বরং আল্লাহ যা পছন্দ করেন, সেটিই করব।”

যে ব্যক্তি রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে, বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ করে, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করে, জিহ্বাকে সংযত রাখে এবং প্রবৃত্তির চাহিদার ওপর আল্লাহর বিধানকে প্রাধান্য দেয়—সে-ই প্রকৃত অর্থে সফল। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সর্বাবস্থায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করার, রাগ দমন করার, ক্ষমাশীল হওয়ার এবং নফসকে তাঁর আনুগত্যের অধীন করার তাওফিক দান করুন, আমীন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

loader-image

Scroll to Top